ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজ | ভিডিওতে ভিউস নাই | YouTube Channel Freeze Problem Bangla

ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজ হয়ে গেছে, ভিডিওতে পর্যাপ্ত ভিউস পাচ্ছেন না হ্যাঁ আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি YouTube Freeze Channel কে কিভাবে Unfreeze করবেন সেই ব্যাপারে কথা বলবো।

সুচনাঃ
  • ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজ হওয়ার কারণ। 
  • সাবস্ক্রাইবার রা ভিডিও পাচ্ছেনা। 
  • চ্যানেল ফ্রিজ সমস্যার সমাধান।
  • ভিডিওতে ভিউস বাড়ানোর উপায়।

যে চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করলেই ২/১ ঘন্টার মধ্যেই 1k+ Views চলে আসতো আপাতত ভিডিও Upload করলে ৩০ থেকে ৪০ ভিউসও আসেনা। টেনে টুনে বড়জোর ১০০ মত আসে। কি করবো বুঝতে পারছি না।

চ্যানেলে Subscriber আছে ১০ হাজারের বেশি কিন্তু ভিউস আসছে না কেন? আমার চ্যানেলের ভিডিও  Notification বন্ধ হয়ে গেলো নাকি!

আমি আগের চেয়ে ভালো ভিডিও বানাচ্ছি তবুও ভিডিওতে Views পাচ্ছিনা। আমার চ্যানেলের কি হল!

ভিডিওর টাইটেল ট্যাগ ডেস্ক্রিপশন এবং থাম্বনেইল সবিই ঠিক আছে তবুও ভিউস আসছে না। আমার চ্যানেলের মনিটাইজেশন বন্ধ হয়ে যাবে না তো? আমার চ্যানেল আগের মত স্বাভাবিক করবো কিভাবে প্লিজ বলেন।

উপরের কথা গুলোর সাথে যদি;আপনার ইউটিউব চ্যানেলের কন্ডিশন ৯৫% মিলে যায় তাহলে নিশ্চিত থাকুন আপনার চ্যানেলটি ফ্রিজ হয়ে গেছে। আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি ধারাবাহিক ভাবে ফ্রিজ সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবো এবং সাথে সাথে কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজ হওয়া থেকে দূরে রাখবেন তারও বেসিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজ হওয়ার কারণ। 

একটি ইউটিউব চ্যানেল Freeze হবার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। ইউটউব কখনো নিজ থেকে কোন চ্যানেলকে ফ্রিজ করেনা বা করতে চাইনা। ইউটিউবের Algorithm তখনিই একটা চ্যানেলকে ফ্রিজ করে দেয় যখন তার নিয়মের বাইরে কার্য চলে। চ্যানেল ফ্রিজ হবার ক্ষেত্রে সর্ব প্রথম দায়ী থাকে উক্ত চ্যানেলের Admin। জ্বি, আমার কথাটি আপনার কাছে মন্দ লাগলেও যেটা সত্য আমি তাই-ই বলছি। একটা ইউটিউব চ্যানেল যখন ফ্রিজ হয় সাধারণত ইউটিউবাররা তখন দুখ্য প্রকাশ করে আফসোস করে কিন্তু এর আগে যদি একটু ভাবার চেষ্টা করতো তাহলে চ্যানেলটি ফ্রিজ হত না।

একটি ইউটিউব চ্যানেল Create করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে Customization করে অসাধারণ একটা Look দেওয়া, এরপর চ্যানেল শুন্য থেকে ধিরে ধিরে বড় করা - কপিরাইট, কমিউনিটি গাইড লাইন রুলস গুলো Maintain করে  ভিডিও তৈরি করা অনেক কষ্টের। আর তার চেয়ে বেশি কষ্ট লাগে যখন আয় ইনকামের দোরগোড়ায় এসে চ্যানেলটি ফ্রিজ হয়ে যায়। অনেকেই ইউটিউবে সফলতার গল্প ভূলে ছেড়ে দেয় তার ইউটিউব যাত্রা, ফিরে আসে গন্তব্যে।

এবার আসুন কি কি কারণে ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজ হয় আলোচনা করা যাক।

চ্যানেলে অনিয়মিত ভাবে ভিডিও আপলোড।
এই সমস্যাটি ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজ হবার প্রধান কারণ। অধিকাংশ ভিডিও ক্রিয়েটর ইউটিউবে ভিডিও আপলোডের ক্ষেত্রে Regularity ম্যানেজ করে না। এই সমস্যায় আমি নিজেও পড়েছি যার জন্য এতো শিওর ভাবে আলোচনা করতে পারছি। ইউটিউবে ভিডিও আপলোডের ক্ষেত্রে নিতান্তই একটা রুটিন তৈরি করে নেওয়া উচিৎ। ইচ্ছা অনুযায়ী হুটহাট করে যখন তখন ভিডিও আপলোড করলে ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজ হতে বাধ্য হবে। আপনি প্রতিদিন না পারেন সপ্তাহে একটি ভিডিও পাব্লিস করুন তবুও আপনাকে সময় এবং বার সিলেক্ট করে নিতে হবে।

ভিডিও ক্যাটগরির পরিবর্তন।

বারবার ভিডিও ক্যাটাগরি পরিবর্তনের ফলে ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজ হয়ে যায়। এটা আমার কথা নয়, ইউটিউব ক্রিয়েটর স্টুডিওতে যেসব অভিজ্ঞ ক্রিয়েটর আছে তাদের কথা। ইউটিউবে যে কোন একটি টপিক কিংবা একটি ক্যাটগরি নির্বাচন করে কাজ করতে হবে। কখনো Mixed Content আপলোড করা যাবে না। ইউটিউবে যে টার্গেট নিয়ে শুরু করেছেন অর্থাৎ প্রথম থেকে যে কোয়ালিটির ভিডিও বানানো শুরু করেছেন Same টপিকে ভিডিও বানিয়ে যেতে হবে। কিছু ভিডিও গস্নের, কিছু ফানি,কিছু টেক রিলেটেড,কিছু ভ্লগ এমনটা না করা যাবেনা। আপনি যে টপিকেই ভিডিও বানাতে সব চেয়ে বেশি পারদর্শী সেই টপিকেই মনোযগী হন।

ভিডিও কোয়ালিটি।

ভিডিও কোয়ালিটির গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে গেলে সর্ব প্রথম এডিটিং নিয়ে বলতে হবে। আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় " ইউটিউবে কেন আসেন?" আপনি নিশ্চয় উত্তর দিবেন ভিডিও দেখতে। হ্যাঁ বিশ্বের সব চেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও প্লাটফর্ম হচ্ছে ইউটিউব। ইউটিইবে যেসব ভিউয়ারস আসে ভিডিও দেখার উদ্যেশ্য নিয়ে নিতান্তই তারা জগাখিচুড়ি মার্কা ভিডিও দেখতে চাইবে না। ধরুন আপনি ৫ মিনিটের একটি ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করলেন,ভিডিওটা ১ হাজার ভিউস হল। এক হাজার ভিউসের এভারেস ওয়াচটাইম ১০-১৫ সেকেন্ড। তার মানে ভিউয়ারস আপনার ভিডিও ক্লিক করেই কোন রকম দেখে স্কিপ করে দিলো। ভিউয়ারসদের ইন্টারেস্ট জোগাতে ভিডিওর কোয়ালিটি ভালো করতে হবে। ভিডিও কোয়ালিটি বলতে DSLR দিয়ে রংচং মা-রা নয়। ভিডিওর ভয়েস, ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক,ভিডিওর কালার গ্রেডিং,যে বিষয় নিয়ে ভিডিও তার স্থির চিত্র সব মিলিয়ে পারফেক্ট করতে হবে।
ভিডিও শ্যুট এবং এডিটিং এর সময় সব কিছু বিবেচনা সাপেক্ষে কাজ করতে হবে। আর সব কিছু পারফেক্ট পারফরম্যান্স করার পরেই সেইটার রুপ নিবে কোয়ালিটি ফুল ভিডিও।

টাইটেল ও থাম্বনেইল। 

ভিডিওর টাইটেল অর্থাৎ যে বিষয় নিয়ে ভিডিও বানিয়েছেন তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ (শিরোনাম) আর থাম্বনেইল হল ভিডিওর পোষ্টার। যে পোষ্টার ভিউয়ারসদের সামনে প্রদর্শন হয় এবং ক্লিক করে দেখার উদ্যেশ্য নিয়ে। Thumbnail টি অবশ্যই সুন্দর এবং লিগ্যাল হতে হবে। ভিডিওর সাথে মিল রেখে থাম্বনেইল বানাতে হবে, ভিউয়ারস যেন থাম্বনেইল দেখে ক্লিক করে ব্যার্থ না হয়। ভুয়া টাইটেল ও থাম্বনেইল থেকে দূরে থাকুন। এটা ব্যবহার করা যাবে না।

ট্যাগ ও ডেস্ক্রিপশন।

একটি ভিডিও SEO এর ক্ষেত্রে যেমন Title TAG Description এর মূল ভূমিকা তেমনই একটি চ্যানেল ফ্রিজ হবার পেছনেও ট্যাগ ও ডেস্ক্রিপশনের ভুয়া ব্যবহার প্রধান দায়ী। অবশ্যই ভিডিও অনুযায়ী টাইটেল দেওয়া উচিৎ আর সেই টাইটেল এক্সপ্লেইন করে ট্যাগ দিতে হবে। কখনো ভিডিও ব্যাতিত অন্য ট্যাগ ব্যবহার করা উচিৎ নয়। ডেস্ক্রিপশনেও ভিডিও রিলেটেড ইনফরমেশন লিখতে হবে। এডভান্স মাতব্বরির ক্ষেত্রে ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজে চলে যেতে পারে তাই সাবধান।

এবার আসুন জেনে নিবো সাবস্ক্রাইবার রা ভিডিও পাচ্ছেনা এর কারণ কি।
একটি ইউটিউব চ্যানেলের জনপ্রিয়তা অর্জনের মূল হোতা সাবস্ক্রাইবার রা অর্থাৎ আপনার চ্যানেলের নিয়মিত দর্শক শ্রোতা এক কথায় চ্যানেলের সদস্য। একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের সফলতা ও ব্যার্থতা ঘিরে সাবস্ক্রাইবারদের গুরুত্ব অন্যতম। সাবস্ক্রাইবারদের সাথে ভালো ব্যবহার ও তাদের চাহিদা অনুযায়ী ভিডিও তৈরি করার দায়িত্ব ক্রিয়েটরের। প্রতিনিয়ত যখন সাবস্ক্রাইবারদের চাহিদার বাহিরে আপনি ভিডিও আপলোড করে যাচ্ছেন তখনই আপনার চ্যানেল ফ্রিজ হয়ে যাচ্ছে। ইউটিউবে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার চ্যানেল তৈরি হচ্ছে এবং হাজার হাজার ক্রিয়েটর আসছে। আপনার ভিডিওর স্থানে যখন অন্য ভিডিও প্রদর্শন হচ্ছে তখন আপনার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার রা অন্য দিকে ঝুকে যাচ্ছে। এর ফলে আপনার চ্যানেল ভিউস হারাচ্ছে অল্গারিদম চ্যানেল ডাউন করে দিচ্ছে।
একদা ফলাফল এসে দাড়াচ্ছে " চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে থাকা সত্যেও নতুন ভিডিওর নোটিফিকেশন পাওয়া যাচ্ছে না।

চ্যানেল ফ্রিজ সমস্যার সমাধান। 

আজকের আর্টিকেলের মুল টার্গেট "ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজ থেকে মুক্ত করার উপায় কি " নিয়ে আলোচনা। 
আজকের পোস্টের প্রথম থেকে এই অব্দি যারা পড়ে এসেছেন নিশ্চয় বুঝে গেছেন ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজ হবার কারণ গুলো কি ছিলো। তারপরেও আরেকবার বলছি,ইউটিউব চ্যানেল ফ্রিজ থেকে বাঁচাতে/স্বাভাবিক চ্যানেলে ফিরিয়ে আনতে প্রচুর হার্ড ওয়ার্ক করতে হবে।

প্রথম থেকে যেভাবে কাজ শুরু করেছিলেন একিই নিয়মে কাজ করতে হবে। তবে যে ভুল গুলোর কারণে চ্যানেল ফ্রিজ হয়েছে একিই ভুল করা যাবে না।
চ্যানেলে নিয়মিত হতে হবে - ভিডিও ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিডিও বানাতে হবে - কোয়ালিটি ফুল ভিডিও আপলোড করতে হবে - টাইটেল ও থাম্বনেইল ভুয়া ব্যবহার করা যাবে না। - ট্যাগ ও ডেসক্রিপশনের সঠিক ব্যবহার প্রয়োগ করে নিয়মিত এক মাস কাজ করার চেষ্টা করুন ১০০% ফ্রিজ সমস্যার সমাধান হবে। আমি আবারও বলছি অনিয়ম কোন কাজ ইউটিউবে করবেন না। অনুগ্রহ করে YouTube Creator Studio পেইজ ফলো করুন এবং জানার চেষ্টা করুন।

ভিডিওতে ভিউস বাড়াবেন কিভাবে। 

চ্যানেল ফ্রিজ থেকে বাঁচাতে যেমন নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে তেমনই ভিডিওতে ভিউস আনতে হলে ক্যাটাগরি অনুযায়ী কোয়ালিটি ফুল ভিডিও বানাতে হবে। কোয়ালিটি ফুল ভিডিও গুলো দর্শক দ্রুত Accept করে এবং ভালো পারফর্মেন্সর ফলে ওয়াচটাইম তুলনামূলক বেশি Count হয়ে থাকে।  এক সময় দেখা যায় যে,ইউটিউব নিজেই আপনার ভিডিও প্রমোট করছে চ্যানেলে নতুন নতুন সাবস্ক্রাইবার আসছে, ভিউস বাড়ছে। 

ভিউস বাড়ানোর আরেকটি উপায় আছে, শুনবেন! 
আপনি যে টপিকে ভিডিও বানিয়ে থাকেন উক্ত টপিকের উপর ট্রেন্ডিং এ কি আছে ফলো করুন। ট্রেন্ডিং নিউজ ও ভিডিও অনুসরণ করে Script লিখে ভিডিও বানিয়ে ফেলুন। ট্রেন্ডিং টপিকে ভিডিও বানিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ভালো ভিউস কাউন্ট করা সম্ভব। তবে ট্রেন্ডিং ভিডিওতে কিন্তু সব সময় ভিউস আসে না। অল্প কিছুদিনের জন্য একেকটা বিষয় ট্রেন্ডিং এ থাকে। আর সুযোগ বুঝে ভিডিও বানিয়ে বেশ ভিউস কাউন্ট করতে পারেন। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।

শেষ কথা। 

আজকের আর্টিকেলের প্রত্যেকটি কথা অত্যন্ত রিসার্চেবল। আমি মিথ্যা বানোয়াট ও আমার মন মত কোন কথা এখানে প্রকাশ করিনি। আমার কথায় যদি আপনি কষ্ট পেয়ে থাকেন অনুগ্রহ করে মাফ করবেন। সাথে সাথে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনার ইউটিউব চ্যানেল ও আপনার সফলতার পেছনে যদি আরেকধাপ মোটিভেশন সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে আমার জন্য দোয়া করবেন। হাতে সময় থাকলে কমেন্ট করে ভালোবাসা অবিরামের তালিকায় যুক্ত হবেন, বিদায় নিচ্ছি আমি শফি। আল্লাহ হাফেজ।

Youtube channel freeze bangla


Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url