আন্তর্জাতিক বাজারের বিপরিতে বাংলাদেশ

গত ৫ - ০৮- ২০২২ ইংরেজি শুক্রবার রাত ১২টা থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক ভাবে ৪০-৫০ শতাংশ (লিটার প্রতি) বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নতুন দর হিসাবে কেরোসিন,ডিজেল,অকটেন এবং পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
ভোক্তা পর্যায়ে লিটারপ্রতি ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাত ১০টায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয় ।
তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ কি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, যতদিন সম্ভব ছিল ততদিন সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা করে নি। অবস্থার প্রেক্ষিতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই কিছুটা দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জ্বালানি তেলের দাম পুনঃবিবেচনা করা হবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাম বৃদ্ধির কথা জানানো হয়। বলা হয়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এ পরিশোধিত এবং আমদানি/ক্রয়কৃত ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের মূল্য সমন্বয় করে ভোক্তা পর্যায়ে এই দাম পুনঃনির্ধারণ করা হলো।

এদিকে জ্বালানি তেলের দর লাগামহীন ভাবে বেড়ে যাওয়াতে সারা দেশে ভুক্তভোগী জনসাধারণকে চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। অনেকেই দাবি করে বলেন,প্রতিদিন দেশে কিছু না কিছুর দাম বাড়ার ঘটনা নতুন নয়, এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশও শ্রীলঙ্কার পথে অগ্রসর হতে বেশিদিন লাগবে না।

জাকির আহমেদ নামের একজন বলেন "শোকের মাসে তেলের দাম বৃদ্ধি করে জনগণকে প্রকৃত শোক উপভোগ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!

সাদিয়া জান্নাত তিসা বলেন "আমরা  নৌকায় করে সিঙ্গাপুর কানাডা  যাচ্ছিলাম হঠাৎ ঢেউ উঠে নৌকা ঘুরিয়ে শ্রীলঙ্কার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

খোরসেদ আলম বলেন "বাংলাদেশ তেলের দাম বাড়লো কেন এর জবাব কে দেবে।

শাহাবুদ্দিন মোল্লা বলেন "ডিজেল পেট্রোলের দাম ৫০% বৃদ্ধিতে দ্রব্যমূল্যের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে বুঝতে পারছিনা। কি হচ্ছে এসব?  সরকারের জনবিচ্ছিন্ন এসব হঠকারী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

গত রাত থেকেই সারাদেশে জ্বালানি তেলের দাম, অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে ভুক্তভোগী জনসাধারণ সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুক সহ নানাভাবে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে।
ওদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গুলোর মাধ্যমে জানা যায়,ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশ ছুঁয়ে ছিলো। এক পর্যায়ে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম উঠে যায় ১৩৯ থেকে ১৪০ ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সুখবর রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে যেন স্বস্তি ফিরে এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই কমছে জ্বালানি তেলের দাম। আজ শনিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৯০ ডলারেরও নিচে নেমে এসেছে। 

অয়েল প্রাইস ডটকম বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দুই ধরনের অপরিশোধিত তেল-ই এখন ১০০ ডলারের কমে বিক্রি হচ্ছে।
ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেল ব্যারেল প্রতি ৮৮ ডলার ৪৩ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। অপরদিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছে ৯৩ ডলার ৯৫ সেন্টে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের বলেন, জনবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় আমজনতার স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যতদিন সম্ভব ছিল ততদিন সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা করে নাই। অবস্থার প্রেক্ষিতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই কিছুটা এডজাস্টমেন্টে যেতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য কমিয়ে দিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য পুনঃবিবেচনা করা হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উর্ধ্বগতির কারণে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত তেলের মূল্য সমন্বয় করে থাকে। ভারত গত ২২মে থেকে কলকাতায় ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ৯২.৭৬ রুপি এবং পেট্রোল লিটার প্রতি ১০৬.০৩ রুপি নির্ধারণ করেছে, যা অদ্যাবধি বিদ্যমান। এই মূল্য বাংলাদেশি টাকায় যথাক্রমে ১১৪.০৯ টাকা এবং ১৩০.৪২ টাকা ( ১ রুপি = গড় ১.২৩ টাকা)। অর্থাৎ বাংলাদেশে কলকাতার তুলনায় ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ৩৪.০৯ এবং পেট্টোল লিটার প্রতি ৪৪.৪২ টাকা কমে বিক্রয় হচ্ছিল। মূল্য কম থাকায় তেল পাচার হওয়ার আশঙ্কা থেকেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া সময়ের দাবি।

বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন বিগত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি ২২ থেকে জুলাই ২০২২ পর্যন্ত) জ্বালানি তেল বিক্রয়ে (সকল পণ্য) ৮০১৪ দশমিক ৫১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পরিস্থিতির কারণে বিপিসির আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাতে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

তথ্য সুত্র - ঢাকা টাইমস - মানব জমিন - Oil Price - The Daily Star - West Texus - ETC.

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url