প্রামাণ্যচিত্রে ভবদহ যশোর

ভবদাহ অর্থাৎ লক্ষাধিক মানুষের হাসি কান্নার আবাস স্থল। ১৯৫৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আয়ুব খানের শাসন আমলে সব থেকে ব্যায় বহুল প্রকল্প ছিলো ভবদাহ স্লুইস গেট নির্মাণ।
সবুজ বিপ্লব প্রকল্পে উক্ত এলাকার ১ লক্ষ ২৮ হাজার হেক্টর আবাদি জমি লবণাক্ত দূর করার লক্ষে এই প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।  ১৯৫৮ সালে শুরু হয় প্রকল্পের কাজ আর শেষ হয় ১৯৬৩ সালে। এরপর কৃষকের মুখে ফুটে ওঠে সোনালী ফসলের সাথে সাথে উজ্জ্বল হাসি।

এই স্ক্রিপ্টে প্রামাণ্যচিত্র দেখুন

সে সময়ে ভবদাহ বেষ্টিত অঞ্চলের মানুষজন বেশ প্রশান্তি পেলেও এই হাসি বেশিদিন স্থায়ী হল না। 
ভবদাহ প্রকল্প বাস্তবায়নের কয়েক বছরের মধ্যেই শুরু হয় জল তরংগের নাচ। মেইন গেটের কপাটে ও সামনে পেছনে প্রচন্ড পলির সৃষ্টি হয় যার কারণে ১৯৮২ সালে নেহালপুর ইউনিয়ন ও কুলটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা স্থায়ী বন্যায় প্লাবিত হয়।
ডুবন্ত রাস্তা ঘাট, ডুবন্ত স্কুল কলেজ - ডুবন্ত ফসলি জমি এবার শুরু হল আন্দোলন।
এরপর ১৯৯৬ সালে ২২৯ কোটি টাকা ব্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃক কাজ শুরু হয় খুলনা যশোর ড্রেনেজ রিহেবিলিশান প্রকল্পের।

প্রথম প্রকল্প হিসাবে নেহালপুর ইউনিয়নের বিল কেদারিয়ায় TRM এর কাজ ।
বিল কেদারিয়ায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নেহালপুর ইউনিয়ন সহ আশেপাশের লোকজন বেশ উপকৃত হল।
ভবদাহ গেট দিয়ে ২৭ টি বিলের পানি নেহালপুর ইউনিয়নের বিল কেদারিয়া হয়ে টেকা মূক্তেশ্বরী নদী বেয়ে সাগরে গিয়ে পড়ত। 
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল জলাবদ্ধ এলাকার মানুষকে স্থায়ী জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করা ।  কিন্তু সেই স্লুইচ গেট আজ মৃত প্রায়।
নদীতে ও গেটের কপাটে প্রচুর পরিমানে পলি জমাট বাধায় প্রতি বছরিই সামান্য বৃষ্টিতে ভবদাহ বেষ্টিত অঞ্চলে সৃষ্টি হয় বন্যার।
তাইতো সবাই বলে ভবদাহ আজ দুখ্য কষ্টের কাল হয়ে দাড়িয়েছে, ভবদাহ আজ ৯৬ এর মরণ ফাদ হিসাবে গণ্য হয়েছে ।

ভবদাহ স্লুইস গেইটের ইঞ্জিনিয়ার বলেছিলেন"কালের বিবর্তনে এই গেট এক সময়ে মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে ।
হ্যা, যার প্রমাণ আমরা এখন হাড়ে হাড়ে পাচ্ছি।  পর্যাপ্ত রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে ভবদাহ আজ ২৭টি বিল পাড়ের মানুষজনের দুখ্যের কারণ। 
প্রতিবারই সামান্য বৃষ্টির ফলে বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে ঘর বাড়ি,আবাদি জমি,স্কুল কলেজ, রাস্তা ঘাট সহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলো। এ যেনো জল ডুবির খেলা।
ভবদাহ কেবলই একটি স্লুইস গেট নয়,এটা যশোরের কেশবপুর, মণিরামপুর, অভয়নগর এবং খুলনার ফুলতলা বটিয়াঘাটা ডুমুরিয়া সহ যশোর সদর উপজেলার জলাবদ্ধতার মূল হোতা।

ভুক্তভোগী জনসাধারণের দাবি TRM ছাড়া এই জলাবদ্ধতা দূর করণের বিকল্প কোন পথ নাই।
ভবদাহ আজ দূর্নীতিতে মোড়ানো,ভবদাহ আজ ব্যাবসা বানিজ্যের স্থান।
কোটি কোটি টাকা লুটপাটের মধ্যে ভবদহ যেন আজ হারিয়ে ফেলেছে তার নাব্যতা।
দিন গেলেই নদী হারাচ্ছে প্রাণ - পলির স্তর বেড়ে যাওয়ায় পানি বন্ধি হচ্ছে কয়েক লক্ষাধিক ঘর বাড়ি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড যেন - সব কিছু দেখা সত্যেও না দেখার ভন ধরে আছে।
গত বছরেও বন্যায়ও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলো সাধারণ মানুষ।
প্লাবিত ছিলো ভবদহ বেষ্টিত অঞ্চলের কয়েক শত স্কুল কলেজ।
প্লাবিত হবার ছয় মাস অতিক্রম তবুও পানি কমেনা -  গেটের মুখে শুরু হল সেচ প্রকল্প,এতে কিছুটা উপকারে আসলেও আবাদি জমি ক্ষতির মুখে।
নিজ অর্থায়নে কৃষকেরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে শুরু করে খাল থেকে সেচের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন -- ব্যয় বহুল তবুও যেনো আবাদের আশা নিয়ে অন ছিজিনে এই দল ছুট। এভাবে আর কত?
আর কত কাল এভাবে চলবে?
ভুক্তভোগী জনসাধারণের প্রাণের দাবি ভবদহ প্রকল্পের দিকে কতৃপক্ষের নেক নজর, আর সেই নেক নজরের অপেক্ষায় আছে ঐতিয্য বাহী টেকা হরি ও মুক্তেশ্বরী নদী।
ভবদহ প্রামাণ্যচিত্র থাম্বনেইল


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url